যেসব অ্যাপ থাকলে হ্যাকড হতে পারে ফোন-ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

গেজেট প্রতিবেদন

আধুনিক সময় স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেছে। অফিস-আদালত, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত নানা কাজে ফোনের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি অবসরে বিনোদনের মাধ্যম কিংবা ঘুমানোর সময় বিছানায় শুয়ে শুয়েও ফোন ব্যবহার করা হয়। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সীর হাতেই এখন স্মার্টফোন রয়েছে।

ফোন ব্যবহারে সবকিছু যেন হাতের মুঠোয় ও সহজপ্রাচ্য হয়েছে। কিন্তু এরপরও নিজেদের অজান্তেই মাঝে মধ্যে কিছু ভুল হয়ে থাকে। যেমন, অকারণে বা অপ্রয়োজনে কোনো অ্যাপ ইনস্টল করা, অন্যের দেখানো বা সামনে বিজ্ঞাপনে আসা কোনো লিংকে ক্লিক করা। এ ক্ষেত্রে প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে পাওয়া অ্যাপকে নিরাপদও মনে করা হয়। কিন্তু প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোরের সব অ্যাপ কি আদৌ নিরাপদ?

কিছু অ্যাপের তালিকা প্রকাশ হয়েছে, যেসব অ্যাপ ফোন থেকে দ্রুত মুছে ফেলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে ব্যবহারকারীদের। কেননা, অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হ্যাকারের কাছে তুলে দিতে পারে। এমনকি আপনার ফোনের নিয়ন্ত্রণও চলে যেতে পারে। এ জন্য অ্যাপগুলো অতিদ্রুত মুছে ফেলার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আইবি টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্ষতিকর অ্যাপগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক―

ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাপ:
অ্যাপটি বিভিন্ন স্টোর থেকে হাজার হাজার বার ডাউনলোড করা হয়েছে। যা দেখতে একটি সাধারণ ক্রিপ্টো অ্যাপের মতো, কিন্তু বাস্তবে একটি ম্যালওয়ার। এ ব্যাপারে সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলতে তৈরি করা হয়েছে অ্যাপটি।

টিকটক ক্লোন অ্যাপ:
এটি দেখতে মূল টিকটকের মতো মনে হলেও, প্রকৃত অর্থে অ্যাপটি নকল সংস্করণ। যা কেউ কেউ না বুঝে ইনস্টল করেন ফোনে। এই অ্যাপটি আপনার ফোনে থাকলে ব্যাংক ও অনলাইন লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য প্রতারকের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আর্ট ফিল্টার ও হোয়াটসঅ্যাপ স্টিকার মেকার:
দুটি অ্যাপই ক্ষতিকর। অ্যাপগুলো ফোনে থাকলে গ্যালারিতে থাকা ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ব্যবহারকারীর লোকেশন, কনট্যাক্ট লিস্টসহ ফোনে সংরক্ষিত প্রয়োজনীয় সব তথ্য চুরি হতে পারে। এছাড়া অ্যাপগুলোয় ম্যালওয়্যারও পাওয়া গেছে।

জিপিএস লোকেশন ফাইন্ডার, স্মার্ট কিউআর ক্রিয়েটর:
দুটি অ্যাপই প্রয়োজনীয় এবং আপনার কাজকে সহজ করে দেবে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থে অ্যাপ দুটি বিপজ্জনক। এসব ফোনে থাকলে ম্যালওয়ার প্রবেশ করতে পারে। আবার প্রতারক চক্র আপনার ওপর নজরদারিও চালাতে পারে।

নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার আগে করণীয়:
স্বাভাবিকভাবেই ফোনে নতুন কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে সেটির উৎস যাচাই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ডেভেলপারের নাম, তৈরির সময় এবং এতে থাকা ফিচারগুলো দেখে নেয়া উচিত। অনেক সময় একই নামে একাধিক অ্যাপ থাকে। এ জন্য অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে ব্যবহারকারীদের মতামত, কতবার সেটি ইনস্টল করা হয়েছে, কোনো আপত্তিকর ছবি-ভিডিওর লিঙ্ক রয়েছে কি-না, তা দেখে নিতে হবে। এছাড়া অ্যাপ ইনস্টলের সময় যদি ফোনের অডিও, ভিডিও, ক্যামেরা, লোকেশন এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের অনুমতি চাওয়া হয়, তাহলে সেটি ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন